রিসিট প্রিন্টার সেটআপ

সর্বশেষ আপডেট:

কোন প্রিন্টার চলবে

Zara POS-এ যেকোনো প্রিন্টারে রশিদ প্রিন্ট করা যায় — দোকানে যেটা আছে সেটাই চলবে:

  • থার্মাল রিসিট প্রিন্টার — ৫৮ মিমি বা ৮০ মিমি রোল। সাধারণ POS কাউন্টারে এটাই সবচেয়ে প্রচলিত।
  • সাধারণ লেজার বা ইঙ্কজেট প্রিন্টার — A4 বা A5 কাগজে পুরো ক্যাশ মেমো।
  • ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার (Epson LQ সিরিজের মতো রিবন প্রিন্টার) — কার্বন কপির কন্টিনিউয়াস কাগজে, ৯.৫″ × ৫.৫″ বা ৯.৫″ × ১১″।

কাগজ বেছে নেওয়া

সেটিংস → রশিদ ও প্রিন্ট কনফিগারেশন — এখানে «কোন কাগজে রশিদ প্রিন্ট হবে?» থেকে আপনার প্রিন্টারের সাথে মিলিয়ে কাগজ বেছে নিন। একবার বেছে নিলে প্রতিটা রশিদ ওই কাগজেই প্রিন্ট হবে।

কাগজ বদলালে নিচের অপশনগুলোও বদলে যাবে — যেমন থার্মাল রোলে কপি সংখ্যা বা স্বাক্ষরের জায়গার দরকার নেই, তাই সেগুলো তখন দেখানো হয় না।

প্রিন্টার সেটআপ

  1. প্রিন্টারটা যে কম্পিউটার বা ডিভাইস থেকে বিক্রি করবেন সেটার সাথে যুক্ত করুন এবং প্রিন্টারের নিজস্ব ড্রাইভার/সফটওয়্যার দিয়ে ইনস্টল করুন (প্রিন্টারের বক্সে বা প্রস্তুতকারকের ওয়েবসাইটে নির্দেশনা পাবেন)।
  2. Zara POS-এর সেটিংসে কাগজ বেছে নিন (উপরে দেখুন)।
  3. রশিদ প্রিন্ট করার সময় ব্রাউজারের প্রিন্ট ডায়ালগ খুলবে — সেখান থেকে আপনার প্রিন্টারের নামটা বেছে নিন।
  4. ডায়ালগে Margins = None এবং Headers and footers বন্ধ রাখুন, নাহলে কাগজের উপরে-নিচে ব্রাউজারের ঠিকানা ছাপা হয়ে যাবে।

অটো-প্রিন্ট — শুধু থার্মাল রোলে

থার্মাল প্রিন্টার (৫৮/৮০ মিমি) হলে প্রতিটা বিক্রয় শেষ হওয়ার সাথে সাথে রশিদ নিজে থেকেই প্রিন্ট হতে পারে। POS স্ক্রিনের কার্টের উপরে ছোট প্রিন্টার সুইচটা চালু করে দিন — ব্যস, আর হাতে করে প্রিন্ট বাটনে চাপ দিতে হবে না।

A4, A5 বা ডট ম্যাট্রিক্স কাগজে অটো-প্রিন্ট হয় না, এটা ইচ্ছাকৃত। বিক্রয়ের পর রশিদ নতুন ট্যাবে খুলবে, সেখান থেকে «প্রিন্ট করুন» চাপতে হবে। কারণ বড় কাগজের প্রিন্টার সাধারণত অফিসে সবাই মিলে ব্যবহার করে — প্রতিটা বিক্রয়ে নিজে থেকে প্রিন্ট ডায়ালগ খুললে কাজের ব্যাঘাত ঘটে, আর একটা ভুল রশিদে পুরো একটা কাগজ নষ্ট হয়।

ডট ম্যাট্রিক্স (কার্বন কপি) প্রিন্টার

রিবন প্রিন্টার ব্যবহার করলে সেটিংসে «ডট ম্যাট্রিক্স (কার্বন কপি) প্রিন্টার» চালু করুন। তখন লোগো, ছায়া আর ধূসর রঙ বাদ পড়বে — শুধু কালো লেখা আর লাইন ছাপা হবে।

এটা সৌন্দর্যের ব্যাপার নয়, দরকারের ব্যাপার: ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার প্রতিটা কালো বিন্দু রিবনে পিন দিয়ে আঘাত করে বসায়। একটা লোগো ছাপতে কয়েক মিনিট লেগে যেতে পারে, আর ধূসর রঙ ঘোলা হয়ে আসে।

  • কপি সংখ্যা বাড়ানোর দরকার নেই — কার্বন কাগজে এক চাপেই কপি হয়ে যায়।
  • ছাপা ধীর মনে হলে প্রিন্টারের ড্রাইভারে Draft কোয়ালিটি বেছে নিন, আর ছোট কাগজ (৯.৫″ × ৫.৫″) ব্যবহার করুন।
  • লেখা কাগজের ডানপাশে কেটে গেলে জানান — কাগজের প্রস্থের সাথে প্রিন্টারের ছাপার প্রস্থ মেলানোর সেটিং আমাদের দিক থেকে ঠিক করে দিতে হবে।

রশিদে প্রতিটা আইটেমের হিসাব

প্রতিটা আইটেমের পাশে পরিমাণ, দর, মূল্য, ছাড় আর মোট — পাঁচটাই থাকে, যাতে গ্রাহক নিজে হাতে মিলিয়ে নিতে পারেন।

A4 বা A5 কাগজে এগুলো আলাদা কলাম হয়ে বসে। থার্মাল রোলে কলাম না বাড়িয়ে সারি বাড়ে — ৮০ মিমি কাগজে ছাপার জায়গা মাত্র ৭২ মিমি, পাঁচটা কলাম বসালে পণ্যের নামের জন্য কিছুই থাকে না। তাই রোলে এভাবে ছাপা হয়:

চিনি (দেশি) ১ কেজি
৫ × ২৫০.০০              ১,২৫০.০০
ছাড় −৫০.০০              ১,২০০.০০

যে আইটেমে ছাড় নেই, তার ছাড়ের সারিটাও নেই — তাই সাধারণ রশিদ আগের মতোই ছোট থাকে। ছাড়ের কলাম A4-তেও তখনই আসে যখন কোনো আইটেমে আসলেই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সর্বমোট মানে ছাড় দেওয়ার আগের দাম — অর্থাৎ মূল্য কলামের যোগফল। এরপর ডিসকাউন্ট সারিতে সব ছাড় একসাথে বাদ যায়, তাই গ্রাহক এক নজরে দেখতে পান তিনি মোট কত ছাড় পেলেন।

কয়েক কপি ও স্বাক্ষরের জায়গা

A4 বা A5 কাগজে ১ থেকে ৩ কপি পর্যন্ত ছাপা যায়, প্রতিটার উপরে নাম লেখা থাকবে — গ্রাহক কপি, অফিস কপি, ডেলিভারি কপি। ডিস্ট্রিবিউটর বা পাইকারি ব্যবসায় এটা কাজে লাগে।

চাইলে রশিদের নিচে গ্রাহকের স্বাক্ষর ও কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর লাইনও রাখতে পারেন।

ছাপানো প্যাড ব্যবহার করলে

আগে থেকে ছাপানো লেটারহেড বা প্যাড ব্যবহার করলে «উপরে বাড়তি ফাঁকা জায়গা (মিমি)» দিয়ে লেখাটা নিচে নামিয়ে আপনার প্যাডের হেডারের সাথে মিলিয়ে নিন।

এক-দুইবার অন্য কাগজে প্রিন্ট

কোনো গ্রাহক যদি একবারের জন্য A4-তে পুরো ইনভয়েস চান, দোকানের সেটিং বদলানোর দরকার নেই। বিক্রয় তালিকা → ওই বিক্রয়ে ঢুকে → «প্রিন্ট» বাটনের পাশের তীর → «অন্য কাগজে» — সেখান থেকে কাগজ বেছে নিন। দোকানের নিজের সেটিং আগের মতোই থাকবে।

প্রথমবার টেস্ট করে নিন

প্রিন্টার নতুন বসানোর পর সরাসরি আসল বিক্রি দিয়ে শুরু না করে, একটা ছোট টেস্ট বিক্রি করে দেখুন রশিদ ঠিকঠাক প্রিন্ট হচ্ছে কিনা — লেখা কাটা যাচ্ছে না তো, কাগজ ঠিকমতো ফিড হচ্ছে কিনা, এসব চোখে দেখে নিশ্চিত হন।

প্রিন্টার নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে নিজে নিজে সমাধান খোঁজার আগে আমাদের ফোন বা WhatsApp সাপোর্টে জানান — বেশিরভাগ সমস্যা দ্রুতই সমাধান করা যায়।

রসিদ ঠিকমতো প্রিন্ট হচ্ছে নিশ্চিত হলে এবার বারকোড স্ক্যানার যুক্ত করার পালা। দেখুন বারকোড স্ক্যানার যুক্ত করা।

গাইড ধরে ডেমোতেই চেষ্টা করে দেখুন

সাইন-আপ বা কার্ড ছাড়াই ডেমো দোকান ঘুরে দেখুন। পছন্দ হলে ফোন বা WhatsApp-এ যোগাযোগ করুন — সেটআপ থেকে শেখানো, সবই আমরা করে দিই।